আবারও লোকসানে পড়লো বিকাশ

ধারাবাহিক লোকসানে পড়েছে দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

যে লোকসান বিকাশের মূল প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংককেই চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ এই সাবসিডিয়ারি বিকাশই বিবেচিত হয় ব্যাংকটির বড় সফলতা হিসেবে।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের অর্ধেক সময়ে  বিকাশ লোকসান দিয়েছে ৩৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে তাদের নিট লোকসান ছিল ৬২ কোটি টাকা।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিকাশের লোকসান হয় ১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

দেশের সবচেয়ে বড় এই এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সর্বশেষ হিসাবে চলতি বছরের আগস্ট মাসে লেনদেন হয়েছিল ৩১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। যা জুলাইতে ছিলো ৪৫ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা এবং জুনে লেনদেন হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। 

এরআগে প্রতিষ্ঠানটির বিগত কয়েক বছরের লাভের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালে ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩২ টাকা, ২০১৫ সালে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৭২২ টাকা, ২০১৬ সালে ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ৪৭১ টাকা, ২০১৭ সালে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ ১৭ হাজার ৭১৬ টাকা এবং ২০১৮ সালে ২০ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯১ টাকা লাভ করে বিকাশ।

রকেটের পর দ্বিতীয় এমএফএস প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ ২০১০ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায়। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১১ সালে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানি ইন মোশন ও ব্র্যাক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে যাত্রা করলেও পরে ২০১৩ সালে এর মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), ২০১৪ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ২০১৮ সালে চীনের বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপের সহযোগী অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল বা আলিপে।

বর্তমানে৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহক রয়েছে বিকাশের। যেখানে দিনে ৯০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ২ লাখ ৩০ হাজার এজেন্ট ও ২২০টি পরিবেশক রয়েছে । ১৭টি ব্যাংক এবং ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মার্চেন্টের সঙ্গে যুক্ত বিকাশ।

সূত্রঃ টেকশহর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *